রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অবস্থানে নাটকীয় পরিবর্তন এলো। সচরাচর পুতিনকে নিয়ে তাকে সমালোচনা করতে দেখা না গেলেও, এবার সেটিই ঘটলো।
রবিবার এনবিসি নিউযকে টেলিফোনে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, পুতিনের ওপর তিনি খুবই ক্ষুব্ধ ও রাগান্বিত। এনবিসি নিউযের সাংবাদিক ক্রিস্টেন ওয়েকারকে সাক্ষাৎকারটি দেন ট্রাম্প।
ওয়েকার জানান, ট্রাম্প বলেছেন- রাশিয়ার দোষে ইউক্রেইনে রক্তপাত বন্ধের বিষয়ে যদি কোনো চুক্তি করতে তিনি ব্যর্থ হন তাহলে রাশিয়া থেকে আসা তেলের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক বসাবেন তিনি।
ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির যেলেন্সকির সমালোচনা করে ও তার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে পুতিনের দেয়া বক্তব্য, তিনি ভালোভাবে নেননি বলেও জানিয়েছেন ট্রাম্প।
গত শুক্রবার পুতিন, ইউক্রেইনে শান্তি স্থাপনের প্রচেষ্টার অংশ হিসাবে অস্থায়ীভাবে দেশটিকে বহিরাগত শাসনের অধীনে রাখার প্রস্তাব দেন। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত বক্তব্যে পুতিন তার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন যে- ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ভলোদিমির যেলেন্সকির মেয়াদ গত বছর শেষ হয়ে গেছে, তাই শান্তি চুক্তি সই করার বৈধতা রাখেন না তিনি। যদিও এতোদিন ট্রাম্প নিজেও যেলেন্সকিকে নিয়ে এমন বক্তব্য দিয়ে আসছিলেন।
রিপাবলিকান সেনেটর মার্কওয়েইন মালিন বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যখন ইউক্রেইন যুদ্ধ বন্ধে আলোচনার উদ্যোগ নেন; তখন অনেকেই অভিযোগ করেন তাঁর প্রশাসন রাশিয়াকে ছাড় দিচ্ছে। যা সত্যি নয়।
পুতিনকে নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া গুরুত্বের সঙ্গে নেয়া উচিত বলে, মন্তব্য করেন মালিন।
ডেমোক্র্যাটিক সেনেটর মাইকেল বেনেট বলেন, রাশিয়ার তেলের ওপর ট্রাম্পের নতুন শুল্ক আরোপ তিনি সমর্থন করবেন। তবে, ট্রাম্পের আগের অবস্থানের কড়া সমালোচনা করেন বেনেট।
বেনেট অভিযোগ করেন, ইউক্রেইনে শান্তি চুক্তির আলোচনা নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, অ্যামেরিকার অবস্থানের অবমাননা করেছেন। যা তাঁর উচিত হয়নি।
অন্যদিকে, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন- ট্রাম্পের এই হুঁশিয়ারি অ্যামেরিকা-রাশিয়ার সম্পর্কে নতুন কোরে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে।